তাওহীদের (ইসলামী একত্ববাদ) ৩ টি রূপঃ

ক) আল্লাহর প্রভুত্বের একত্ববাদ যা আরবীতে তাওহীদ-উর-রবুবিয়্যাহ:

বিশ্বাস করা যে সমগ্র বিশ্বের একজনই প্রভু বা প্রতিপালক যিনি ইহার স্রষ্টা, সংগঠক, পরিকল্পনাকারী, ধারণকারী, পরিপোষণকারী এবং নিরাপত্তাদানকারী এবং তিনিই আল্লাহ।

খ) আল্লাহর ইবাদতে একত্ববাদ যা আরবীতে তাওহীদ-আল-উলুহিয়্যাহ:

বিশ্বাস করা যে আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনা বা পূজা অর্চনা (প্রার্থনা, যাঞ্চা, অদৃশ্যের সাহায্য পাবার আকুতি, শপথ, মানত, কুরবানী, দান-সদকা, উপবাস/রোজা, হজ্জ্ব করা) পাবার অধিকার নেই। (যেহেতু তিনিই এই মহাবিশ্ব এবং এর মধ্যস্থ দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সবকিছুর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, ধারণকারী ও নিরাপত্তাদাতা)

গ) আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ যা আরবীতে তাওহীদ-আল-আসমা ওয়াস সিফাত:

বিশ্বাস করা যে,

১) আমরা আল্লাহর জন্য কোন নাম ও গুণাবলী আরোপ করবোনা, তিনি এবং তাঁর রসূল (ﷺ) প্রদত্ত তাঁর নাম ও গুণাবলী ছাড়া।

২) আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অন্য কারো প্রতি আরোপ করা যাবে না; যথা: আল-কারীম (মহাসম্মানিত) । (এ ধরনের উপাধি শুধুমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সৃষ্ঠজীবের হতে পারেনা) ।

৩) আল্লাহ তাঁহার কিতাবে (আল-কুরআনে) এবং তাঁর রসূলের (মুহাম্মদ) (ﷺ) মাধ্যমে তাঁর যেসব গুণাবলীর বর্ণনা দিয়েছেন সেসকল নাম ও গুণাবলীতে কোন প্রকার পরিবর্তন, বিকৃতি (অপব্যাখ্যা ছাড়া) এবং যাহা কোন সৃষ্টিজীবের গুনের মত নয়, তুলনীয় নয় বা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় জেনে আমরা তা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবো। যথা কুরআনে উল্লিখিত, আল্লাহ তাঁহার আরশে সমাসীন। (সূরা ত্ব’হা, আয়াত নং ৫)

“পরম দয়াময় (আল্লাহ) আরশে সমাসীন” (যেভাবে তাঁর মাহাত্যের সাথে শোভনীয়) যা সপ্তাকাশের উপর; এবং আরাফার দিনে (জ্বিলহজ্জ মাসের ৯ম দিবসে) তিনি আমাদের (নিকটবর্তী) প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশে ও যেমন নবী (ﷺ) উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর জ্ঞানের (ও শক্তির) মাধ্যমে আমাদের সাথেই আছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সত্ত্বা বা জাতসহ নয় (এটা সেরূপ নয় যেমন কিছু লোক মনে করে এখানে সেখানে সর্বজায়গায় এমনকি মানবের বক্ষস্থিত অন্তরেও রয়েছেন) । আল্লাহ আরও বলেন, “কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সব শোনেন, সব দেখেন।” (সূরা আশ-শুআ’রা, আয়াত নং ১১)

এই আয়াত কোন সৃষ্ট বস্তুর সাথে কোন প্রকার তুলনা বা সাদৃশ্য ছাড়াই আল্লাহর দর্শন ও শ্রবণশক্তির গুণাবলী প্রমান করে। একইভাবে আল্লাহ আজ্ঝা ওয়া জ্বাল (عز و جل) আরও বলেন,

“যাকে আমি নিজ উভয় হস্তে সৃষ্টি করিয়াছি।” (সূরা সাদ, আয়াত নং ৭৫)

এবং তিনি আরও বলেন, “তাদের হাতের উপরে আছে আল্লাহর হাত।” (সূরা আল-ফাত্হ, আয়াত নং ১০)

এটা আল্লাহর দুটি হাত নিশ্চিত করে, কিন্তু মূলত তাদের (দুটি হাতের) কোন সাদৃশ্য নাই। এটাই সকল প্রকৃত মুমিনদের (বিশ্বাসীদের) বিশ্বাস এবং এটা নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, ঈসা (আলাইহুমুস সালাম) থেকে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর বিশ্বাস।

তাওহীদের এই তিনরূপ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) (আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত/ উপাসনা পাবার অধিকার নেই)” এই অর্থের মধ্যে শামিল আছে।

আল্লাহর রসূলের (বার্তাবাহক) অনুসরণ করা অপরিহার্য যাকে আরবীতে উজুব আল ইত্তিবা বলে, ইহা তাওহীদ আল-উলুহিয়্যার একটি অংশ। এটা “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল” এর অর্থের মধ্যে শামিল এবং ইহার অর্থ “আল্লাহর কিতাবের (কুরআন) পর আল্লাহর রসূল ছাড়া আর কাহারও অনুসরণ/আনুগত্য পাবার অধিকার নেই।”

আল্লাহ বলেন, “এবং রসূল (ﷺ) তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো।” (সূরা আল-হাশর, আয়াত নং ৭)

এবং আল্লাহ আরও বলেন, “বলুন (হে মুহাম্মাদ), হে মানবজাতি তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ কর (ইসলামের তাওহীদ গ্রহণ কর এবং কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ কর), আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৩১)

*একত্ববাদ শুধু ইসলামের অনুসারীদের জন্য নয়, এটা বিশ্ব জাহানের বিশেষতঃ ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য । আল্লাহকে একমাত্র স্রষ্টা, প্রতিপালক ও উপাস্য মানা সকলের জন্য বাধ্যতামূলক ।