بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين نبينا محمد (ﷺ) وعلى آله وأصحابه و من تبعهم أجمعين.

আসমানের নিচে যমীনের উপরে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান বা ইল্‌ম হলো নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এবং এর মধ্যে অবস্থিত দৃশ্য ও অদৃশ্যমান সকল সৃষ্টির স্রষ্টা ও প্রতিপালক মহিমান্বিত আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান বা ইল্‌ম। রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) কে একদিন জিজ্ঞাসা করা হলো “কোন আমলটি উত্তম?” জবাবে তিনি বললেন, “আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা” (বুখারী হা/২৬, মুসলিম হা/৩৬) । উক্ত হাদীসে নবী (ﷺ) ঈমানকে (যা আল্লাহ্‌ তা'য়ালা সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তি) শ্রেষ্ঠ বা সর্বোত্তম আমল বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন।

ইসলামের পাঁচটি মূলভিত্তির মধ্যে প্রথম হলো ঈমান। ইসলামের সকল বিধান ও কর্মের মধ্যে ঈমানের গুরুত্ব যেমন বেশি তেমনিভাবে সকল ইসলামী জ্ঞানের মধ্যে ঈমান বা আকীদা বিষয়ক জ্ঞানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাই একজন মু'মিনের জন্য অতীব জরুরি হলো বিশুদ্ধ ঈমানের পরিচিতি ও স্বরূপ সম্পর্কে বিশদভাবে অবগত হওয়া এবং তৎসঙ্গে ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়াদি, সেগুলির কারণ ও স্বরূপ সম্পর্কেও বিশদভাবে অবগত হওয়া। এই বিষয়ের জ্ঞান রাখা একজন মু'মিনের দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি ও সফলতার জন্য অপরিহার্য।

আমরা জানি, বিশ্বাস ও কর্মের সমন্বয়ে ইসলাম। সঠিক বিশ্বাস বা ঈমান ইসলামের মূল ভিত্তি। এবং মানুষের পরিচালিকাশক্তি যা তাকে সফলতা ও সৌভাগ্যের শিখরে তুলে দেয়, তার জীবনে বয়ে আনে অফুরন্ত শান্তি আর আনন্দ। আমাদের সৎকর্ম আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে শিরক-মুক্ত ঈমান।

মহান আল্লাহ্‌ বলেন, “আর যে ব্যক্তি পারলৌকিক জীবনে কল্যান চায়, আর তার জন্য চেষ্টা করে যতখানি চেষ্টা করা দরকার এবং সে বিশ্বাসী বা মু'মিন হয়, এরাই হল তারা যাদের চেষ্টা সাধনা সাদরে গৃহীত ও স্বীকৃত হবে।” (সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত নং ১৯)

“যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম (শির্ক) দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা কেবল তাদের জন্যই এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।” (সূরা আন'আম, আয়াত নং ৮২)

এ আয়াত থেকে বুঝা গেলো যে, যারা ঈমান আনার পর তাদের ঈমানকে যুল্‌ম (শির্ক) থেকে মুক্ত রাখবে তারাই হেদায়াত পাবে এবং পরকালের নিরাপত্তা লাভ করবে। কিন্তু যারা ঈমানের সাথে শির্ক

মিশ্রিত করবে তারা হেদায়াত ও নিরাপত্তা পাবে না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মানুষই ঈমান এবং ঈমান বিনষ্টকারী শির্ক-কুফর ও নিফাক সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেনা।

কোন বিষয়ে বিশ্বাস করতে হলে তাকে আগে সে বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। সেকারনে ঈমান বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করাই জীবনের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয দায়িত্ব। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ্‌ বলেন, “অতএব তুমি জেনে রেখো যে আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন মাবুদ বা উপাস্য নেই।” (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত নং ৯)

(এখানে জেনে রেখো বলতে কালেমা তাইয়্যেবাতে বর্ণিত একত্ববাদ ও রেসালাত সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনকে বুঝানো হয়েছে)

উপরোক্ত বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে মদীনা মনোয়ারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইসলামী আকীদা শিক্ষা' বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ তাকীউদ্দিন আল-হিলালী ও উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মুহসিন খান কর্তৃক যৌথভাবে প্রণীত কুর'আনের ইংরেজি অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ “দি নোব্‌ল কুর'আন” এর পরিশিষ্ট-২ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ অনুবাদ করা হয়েছে। পরিশিষ্ট বা সংযোজন হবার কারণেই আলোচিত বিষয়বস্তুকে তাঁরা অতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছেন। বিভ্রান্তি এড়াতে এবং সঠিক বিশ্বাস এর ধারণা লাভে সহায়ক হবে সে বিবেচনায় অনূদিত অংশ ঠিক রেখে কয়েকটি বিষয়বস্তুর সঙ্গে কুর'আন, তাফসীর, সহীহ্‌ হাদীস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত কিছু অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছি। আশা করছি পাঠকের জন্য তা খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হবে, ইনশাআল্লাহ্‌। পাঠকের কর্মব্যস্ততা স্মরণে রেখে ও বইয়ের কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় কুরআনের আয়াত ও হাদীসের মূল আরবী উদ্ধৃতি পরিহার করা হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য দলীল-প্রমাণ ও শব্দবিন্যাসের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তথাপিও মানুষ হিসাবে লেখার মধ্যে ভুল-ক্রুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিজ্ঞ পাঠক মহলের নজরে কোন ধরণের ভুল-ক্রটি পরিলক্ষিত হলে তা অবহিত করানোর অনুরোধ রইলো যাতে পরবর্তিতে তা সংশোধন করা যায়।

বিস্তারিত না হলেও বইটিতে যেসব বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে তার দ্বারা পাঠক সমাজ অনেক উপকৃত হবেন আশা রাখি।

জেনে-বুঝে সঠিকভাবে ঈমান আনতে/ ইসলামে দীক্ষিত হতে এবং নিজেদের ঈমানকে ক্ষতি থেকে হেফাজত করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। এই বইটির মাধ্যমে কোন পাঠক উপকৃত হলে বইটির জন্য আমাদের শ্রম-সাধনা সার্থক হবে, ইনশাআল্লাহ্‌।

বইটি সম্পাদনা করেছেন বহু গ্রন্থপ্রনেতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সম্মানিত সভাপতি জনাব মাওলানা কাজী আবু হুরাইরা। শাইখের এ মহতি সহযোগীতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। উনিসহ বইটি প্রকাশনার কাজে যাদের সহযোগিতা রয়েছে (কম্পিউটার কম্পোজ, প্রুফরিভিউ ও ডিজাইনের কাজে সহায়তা করেছে আমার স্নেহের সন্তান নূরুদ্দীন মুহাম্মাদ আলী জামি, মাহমুদ আবদুর রহমান তোকি, মুহাম্মদ ইব্রাহীম জাকি) এবং যেসব উলামায়ে কেরামের লেখনী থেকে সহযোগিতা নেয়া হয়েছে আল্লাহ্‌ তা’আলা যেন সকলকে উত্তম বিনিময় দান করেন এবং এ প্রচেষ্টাকে পাঠকসহ আমাদের, আমাদের পিতা-মাতা ও পরিবারের সকলের জন্য চিরস্থায়ী জগত পরকালে মুক্তির ওসিলা করে দেন এবং আমাদের সকলকে জান্নাতুল ফিরদাঊসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমীন, আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল ভূলত্রুটি ক্ষমা করুন ও পূর্ণ মু'মিন হিসেবে কবুল করুন, আমীন।

সকলের দোয়া প্রার্থী।

-মুহাম্মাদ ইয়াকুব আলী

রাজশাহী, এপ্রিল, ২০২২