৪র্থ দফা ছিল আপনার হৃদয় দিয়ে এ স্বীকারোক্তি করা যে- “হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (ﷺ) আপনার বাণীবাহক বা বার্তাবাহক (রসূল) ।”
➧ “বলুন, ‘হে মানুষ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর রসূল, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই; তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। কাজেই তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূল উম্মী নবীর প্রতি যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহে ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ কর, যাতে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হও’।” (সূরা আরাফ, আয়াত নং ১৫৮)
➧ আমি তো তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; এমন কোন সম্প্রদায় নেই যার নিকট সতর্ককারী প্রেরিত হয়নি। -সূরা ফাতিরঃ ২৪
➧ “কত বরকতময় তিনি! যিনি তাঁর বান্দার (রসূল (ﷺ) উপর ফুরকান নাযিল করেছেন, সৃষ্টিজগতের জন্য সতর্ককারী হওয়ার জন্য।” (সূরা ফুরকান, ১)
➧ “আর আমরা তো আপনাকে সমগ্র মানুষের জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।” (সূরা সাবা, ২৮)
➧ “হে মুমিনগন! আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আন। তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে দেবেন দ্বিগুন পুরষ্কার এবং তিনি তোমাদেরকে দেবেন নূর, যার সাহায্যে তোমারা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা হাদীদ, ২৮)
➧ “আর আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল কোন বিষয়ের ফায়সালা দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোন (ভিন্ন সিদ্ধান্তের) ইখতিয়ার সংগত নয়। আর যে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে অমান্য করল সে স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হলো।” (সূরা আহযাব, ৩৬)
➧ “কিন্তু না, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর আপনার মীমাংসা সম্পর্কে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়।” (সূরা নিসা, ৬৫)
ব্যাখ্যা: বিরোধীয় বিষয়ে রসূলের (ﷺ) মীমাংসাকে মেনে নিয়ে সে মতে কাজ করা বাদী বিবাদী উভয় পক্ষের উপর ফরয। তাঁর তিরোধানের পর তাঁর পবিত্র শরীয়তের মীমাংসাই হলো তাঁর মীমাংসা যা কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। (তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া, সংক্ষেপিত)
➧ “কাজেই যারা তাঁর (রসূল (ﷺ) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা নূর: ৬৩)
➧ “যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।” (বুখারী ৫০৬৩, মুসলিম ১৪০১)
➧ বলুন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন ক্ষতি বা কল্যাণের মালিক নই৷’ বলুন, ‘আল্লাহ্র পাকড়াও হতে কেউই আমাকে রক্ষা করতে পারবে না এবং আল্লাহ্ ছাড়া আমি কখনও কোন আশ্রয় পাব না। (সূরা জ্বীন-২১,২২)
➧ বলুন, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভালো মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি গায়েবের খবর জানতাম তবে তো আমি অনেক কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আমি তো আর কিছুই নই।’ (সূরা আরাফ, আয়াত নং ১৮৮)
নোট: মুহাম্মাদ (ﷺ) কে রসূল হিসাবে সাক্ষ্য দেয়ার অর্থ হলঃ
(১) তিনি যে বিষয়ের সংবাদ দিয়েছেন, তা বিশ্বাস করা,
(২) তাঁর আদেশ মান্য করা,
(৩) তিনি যে বিষয় নিষেধ করেছেন, তা থেকে দূরে থাকা
(৪) তাঁর নির্দেশিত শরীয়ত অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করা
(৫) তাঁর শরীয়তে নতুন কোন বিদ্আত সৃষ্টি না করা।
এই বিষয়ের সাক্ষ্য দেয়ার অন্যতম দাবী হল সৃষ্টি বা পরিচালনায় এবং প্রভূত্বে কিংবা ইবাদতে রসূল (ﷺ) এর কোন অধিকার নাই। বরং তিনি আবদ্ বা আল্লাহর দাস ও বান্দা। মা’বুদ নন। তিনি সত্য রসূল। তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না। তিনি নিজের জন্য কিংবা অপরের জন্য কল্যাণ-অকল্যাণের কোন ক্ষমতা রাখেন না। মানুষের কল্যাণ-অকল্যাণের একমাত্র মালিক আল্লাহ।
সূত্র: ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম, সালিহ আল-উসাইমান।