কপটতা (মুনাফিকী) ও ইহার বিচিত্র স্পষ্ট প্রকাশিত রূপ।
কপটতা দুই ধরণের যথাঃ
ক) বিশ্বাসের কপটতা খ) কর্মগত বা আমলে কপটতা
ক) বিশ্বাসে কপটতাঃ
বিশ্বাসে কপটতার ৬টি রূপঃ
১. আল্লাহর রসূল (বার্তাবাহক/বাণীবাহক/দূত) মুহাম্মদ (ﷺ) কে মিথ্যা জানা /মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
২. রসূল মুহাম্মদ (ﷺ) যা কিছু এনেছেন তার কিছু বিষয়কে মিথ্যা জানা বা প্রতিপন্ন করা। (যেমন: কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামের আইন ও নীতি-আদর্শ)
(অনুবাদকঃ উপরোক্ত ২টি বিষয়কে একত্রে এভাবে বলা যায়ঃ ১) রসূল মুহাম্মদ (ﷺ) ও ২) তাঁর আনীত কুরআন, সুন্নাহ ও ইসলামের আইন বিধান ও নীতিআদর্শকে মিথ্যা জানা বা প্রতিপন্ন করা)
৩. রসূল (আল্লাহর সংবাদবাহক/বাণীবাহক/দূত) মুহাম্মদ (ﷺ) কে ঘৃণা ও অপছন্দ করা।
৪. রসূল মুহাম্মদ (ﷺ) যা এনেছেন (অর্থাৎ ইসলামের একত্ববাদ ও আইনবিধান ইত্যাদি) তার কিছু বিষয়কে ঘৃণা ও অপছন্দ করা।
(উপরোক্ত ৩ ও ৪ নং ক্রমিকে বর্ণিত বিষয়কে একত্রে এভাবে বলা যায়; ৩) রসূল মুহাম্মদ (ﷺ) কে ও ৪) তাঁর আনীত ইসলামী একত্ববাদের কিছু বিষয়কে ঘৃনা ও অপছন্দ করা -অনুবাদক)
৫. আল্লাহর রসূলের (ﷺ) ধর্মের সম্মানহানি বা অবমাননায় সুখানুভব করা।
৬. আল্লাহর রসূলের (ﷺ) ধর্মের বিজয়কে অপছন্দ করা (ইসলামের বিজয়ে আনন্দিত না হওয়া) ।
যে ব্যক্তির মধ্যে এই ৬ প্রকারের মুনাফিকী বা কপটতা থাকবে সে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে। (সূরা নিসা, আয়াত নং ১৪৫ দ্রষ্টব্য)
খ) কর্মে বা আমলের মধ্যে কপটতাঃ
কর্ম বা আমলগত কপটতা বা মুনাফিকীর ৫-টি রূপ আছে যার প্রমাণ আল্লাহর রসূলের (ﷺ) বর্ণনা। মুনাফিকের চিহ্ন বা লক্ষণ হলো এগুলো:
১. যখন সে কথা বলে, সে মিথ্যা বলে।
২. যখন সে ওয়াদা বা অঙ্গীকার করে, সে সর্বদা তা ভঙ্গ করে।
৩. যদি তুমি তাকে বিশ্বাস কর, সে নিজেকে অসৎ প্রমাণ করে (যদি তুমি তার কাছে কিছু আমানত রাখ, সে তা ফেরৎ দিবে না) ।
৪. এবং নাবী করীম (ﷺ) এর অপর বর্ণনাঃ যখন সে ঝগড়া করে, সে হঠকারী, দুর্বিনীত, নির্লজ্জ, অবমাননাকর ও খারাপ ব্যবহার করে (গালি গালাজ করে) ।
৫. যখন সে কোন চুক্তি করে, সে বিশ্বাসঘাতকতা করে।