১. যারা স্রষ্ট্রাকে সঠিকভাবে চিনতে চান: মানবজাতির মধ্যে যারা এই পৃথিবীর বিশাল প্রান্তর অতিক্রম করে চলেছেন, কিন্তু তারা তাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালকের (যিনি তাকে মাতৃগর্ভের সংকীর্ণ পরিসরে ত্রিবিধ অন্ধকারে সৃষ্টি করে না চাইতেই তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে, মানবাকৃতি দান করে, মাতৃগর্ভরূপ জাহাজ থেকে বিশাল পৃথিবী পৃষ্ঠে নামিয়ে দিয়েছেন) কোনো খোঁজ-খবরও রাখেননি। যারা তাদের সৃষ্টিকর্তার পরিচয় জানতে চান তাদের জন্য।
২. যারা মহাসত্যের সন্ধান জানতে আগ্রহী: যারা অসংখ্য বই কিতাব পাঠ করেও মহাসত্যের সন্ধান পাননি, বহু ডিগ্রী ও পদপদবী অর্জন করেছেন, কিন্তু আল্লাহর কিতাবের মাত্র কয়েক পৃষ্ঠায় বর্ণিত জ্ঞান ও বিশ্বাসের অভাবে মহিমান্বিত প্রভু আল্লাহ্র সর্বব্যাপী বিধানের বাইরে অমুসলিম রয়ে গেছেন, মুসলিম অর্থাৎ আত্মসমর্পণকারী হয়ে মানবিক দুঃখ-কষ্ট-বেদনার মধ্যেও একজন মু’মিন ব্যক্তির মত কল্যাণ ও শান্তিলাভ করতে পারেননি এবং যারা পাপ না করেও মহাপাপী এবং সৎকর্ম করেও আমলনামা ফাঁকা দেখবেন তাদের জন্য।
৩. যারা অনন্ত জীবনে মহাভাগ্যবান হতে চান: মহাসমুদ্রে একটি সুচ ডুবালে তার মাথায় ধারণকৃত বারিবিন্দুর মত ক্ষুদ্র এই মানব জীবনের বিদায়লগ্নে যারা মহাপ্রভূর পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস, চিরস্থায়ী পরজগতে অন্তর যা চায় এবং মন যা দাবি করে সেসব কিছু পেয়ে মহাভাগ্যবান হতে চান (সূরা হা-মীম সাজদাহ্, আয়াত নং ৩০-৩২ দ্রষ্টব্য, যে ওয়াদা সত্য ও বাস্তব যা পৃথিবীর কোন সংবাদসংস্থা যেমন- বিবিসি, সিএনএন বা ভয়েস অফ আমেরিকার দেয়া তথ্যের মত নয় যা অনেক সময় ভূল, মিথ্যা, পক্ষপাতদুষ্ট ও অনির্ভরযোগ্য হয়) তাঁদের জন্য।
৪. যারা মৃত্যুর সময় ও পরকালীন জীবনে নিরাপত্তা চান: “আর আপনি যদি দেখতেন তখনকার অবস্থা যখন ফিরিশতাগণ অবিশ্বাসীদের মুখমন্ডলে ও পৃষ্ঠদেশে আঘাত করে তাদের প্রাণহরণ করছে এবং বলছে, তোমরা দহনযন্ত্রণা (আগুনের) ভোগ করো।” (সূরা আনআম, আয়াত নং ৫০) যারা মৃত্যুকালীন উক্ত শাস্তি এবং তারপরে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে নিরাপত্তা কামনা করেন- তাঁদের জন্য।
৫. যারা তাওহীদের কালেমার যথাযথ শাহাদাহ ও স্বীকারোক্তি সহকারে ইসলামে দীক্ষিত হতে চান / নিজেদের ঈমান নবায়ন করতে চান - তাঁদের জন্য: রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, “তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন কর।” জিজ্ঞাসা করা হলো, “কিভাবে আমরা আমাদের ঈমানকে নবায়ন করবো?” রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, “তোমরা বলো, ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ্’।” (মুসতাদরাক হাকেম) –যারা সজ্ঞানে নিজেদের ঈমান নবায়ন করতে চান তাঁদের জন্য।
৬. যারা ঝিনুকের মাঝে মহাসমুদ্রের মণি-মুক্তার সন্ধান পেতে এবং মহাসৌভাগ্য ও মহাদুর্ভাগ্যের রহস্য জানতে চান- তাঁদের জন্য।
৭. যারা জাহান্নামের জ্বালানী হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করতে চান: “আর (বলা হবে) “হে অপরাধীগণ (পাপীগণ)! তোমরা আজ (জান্নাতবাসীগণ হতে) পৃথক হয়ে যাও।” সূরা ইয়া’সীন, আয়াত নং ৫৯
মহান আল্লাহ আদম হাওয়ার (আঃ) মাধ্যমে পৃথিবীতে মানব জাতির বীজ বপন করেছেন। কিয়ামতের দিন তিনি তাঁর ফসল কাটবেন। কৃষক যেমন দানাদার ফসল থেকে চিটাগুলোকে জ্বালানীর জন্য আলাদা করে ফেলে, তদ্রূপ যে মানুষগুলো ঈমানের গুণাবলীতে পুষ্ট ও পুণ্যবান না হয়ে চিটারূপে পাপাচারী হয়েছে, তাদেরকে তিনি জাহান্নামের জন্য উক্ত আয়াতে বর্ণিত নির্দেশ দ্বারা পৃথক করে নিবেন।
৮. যারা সমাজ সংস্কারক হয়ে মানুষের আত্নশুদ্ধি আনার মাধ্যমে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পেতে চানঃ যে জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের অভাবে পরিবারের আপনজন থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিথ্যা প্রতারণা, আমানতের খিয়ানত, ওয়াদা অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গ, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যের অর্থ-সম্পদ আত্মসাত সহ অন্যান্য হারাম উপার্জন এবং এর ফলশ্রুতিতে কলহ-বিবাদ মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে অগণিত মানুষ ক্রমাগত অশান্তির আগুনে জর্জরিত, শোষিত ও নিস্পেষিত। আর এসবই মানুষের মহা পাপাচারে লিপ্ত হবার ফলাফল । সূরা ইউনূসের ২৬-২৭ নং আয়াতের আলোকে তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজ পরিজন সহ সমাজের মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে এবং জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামতের প্রদর্শক হয়ে মহা ভাগ্যবান হতে চান - তাদের জন্য (এর চাইতে উত্তম কোন জনকল্যাণ/সমাজ সংস্কারের কাজ আর কিই বা হতে পারে?) ।