দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সবকিছুর স্রষ্টা, প্রতিপালক, ধারণকারী ও পরিচালক হিসেবে আল্লাহর পরিচয় সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা ও নোটসহ) উপস্থাপিত হলো:

➧ “অথচ আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন। তোমাদেরকে এবং তোমরা যা তৈরী কর তাও।” (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত নং ৯৬)

➧ “তোমাদের রব তো আল্লাহ্‌, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি ‘আরশে অধিষ্টিত হয়েছেন । তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি লাভ না করে সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ্‌, তোমাদের রব; কাজেই তোমরা তাঁরই ইবাদাত কর। তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহন করবে না?” (সূরা ইউনুস, আয়াত নং ৩)

➧ “আর তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করেনি অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে এবং আসমানসমূহ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের উর্ধ্বে।” (সূরা যুমার, আয়াত নং ৬৭)

➧ “আমরা আজ এদের মুখ মোহর করে দেব, এদের হাত কথা বলবে আমাদের সাথে এবং এদের পা সাক্ষ্য দেবে এদের কৃতকর্মের।” (সূরা ইয়াসীন, আয়াত নং ৬৫)

➧ “আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবীও অনুরূপ, ওগুলোর মধ্যে নেমে আসে তাঁর নির্দেশ, যাতে তোমরা বুঝতে পার যে, অবশ্যই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।” (সূরা তালাক্ব, আয়াত নং ১২)

ব্যাখ্যা: أَيْ: خَلَقَمِنَالأَرْضِمِثْلَهُنَّ সাত আসমানের ন্যায় সাত যমীনও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। যেভাবে উপর্যুপরি সাতটি আসমান রয়েছে, অনুরূপ সাতটি যমীনও রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও ব্যবধানও আছে এবং প্রত্যেক যমীনে আল্লাহর সৃষ্টি আবাদ রয়েছে। (ক্বুরত্ববী) বহু হাদীস দ্বারা এ কথার সমর্থনও পাওয়া যায়। যেমন, নবী (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি যুলুম করে বিঘত পরিমাণ যমীন আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনকে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।” (মুসলিম, বাণিজ্য অধ্যায়, যুলুম করা হারাম পরিচ্ছেদ) সহীহ বুখারীর শব্দাবলী হল, (خُسِفَبِهِيَوْمَالْقِيَامَةِإِلَىسَبْعِأَرَضِينَ)”কিয়ামতের দিন তাকে সপ্ত যমীনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে। (বুখারী, মাযালিম অধ্যায়, যমীন আত্মসাৎ করার পাপ পরিচ্ছেদ) কেউ কেউ এটাও বলেন যে, প্রত্যেক যমীনে ঐ রকমই পয়গম্বর রয়েছেন, যে রকম পয়গম্বর তোমাদের যমীনে এসেছেন। যেমন, আদমের মত আদম, নূহের মত নূহ। ইবরাহীমের মত ইবরাহীম। ঈসার মত ঈসা (বায়হাকী ও মুসতাদরাক হাকেম সহীহ বলেছেন) । কিন্তু এ বর্ণনা কেউ কেউ যয়ীফ বা দূর্বল বলেছেন। যেভাবে, প্রত্যেক আসমানে আল্লাহর বিধান কার্যকরী ও বলবৎ আছে, অনুরূপ প্রত্যেক যমীনে তাঁর নির্দেশ চলে। সপ্ত আকাশের মত সপ্ত পৃথিবীর পরিচালনাও তিনিই করেন। অতএব কোন জিনিস তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়, চাহে তা যেমনই হোক না কেন। (তাফসীরে আহসানুল বায়ান)

➧ “তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং তাকে (আকাশকে) সপ্তাকাশে বিন্যস্ত করেন, তিনি সকল বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৯)

➧ “তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের উদ্ভাবক। আর যখন তিনি কোন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার জন্য শুধু বলেন, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।” (সূরা বাকারা, আয়াত নং ১১৭)

➧ “বল, ‘হে রাজ্যাধিপতি আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান কর এবং যার নিকট থেকে ইচ্ছা রাজত্ব কেড়ে নাও, যাকে ইচ্ছা সম্মানিত কর এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত কর। তোমার হাতেই যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয় তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত নং ২৬)

➧ “আল্লাহ্, যিনি আসমানসমূহ উর্ধে স্থাপন করেছেন খুঁটি ছাড়া, তোমরা তা দেখছ। তারপর তিনি ‘আরশের উপর উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়মাধীন করেছেন; প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন, আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাত সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার।” (সূরা রাদ, আয়াত নং ২)

➧ “তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ-পুরুষদেরও পালনকর্তা।” (সূরা দুখান, আয়াত নং ৮)

➧ “আল্লাহ্, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আর যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করে তা দিয়ে তোমাদের জীবিকার জন্য ফলমূল উৎপাদন করেন এবং যিনি নৌযানকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছেন যাতে তাঁর নির্দেশে সেগুলো সাগরে বিচরণ করে এবং যিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন নদীসমূহকে।” (সূরা ইব্রাহীম, আয়াত নং ৩২-৩৩)

➧ “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জোড়া; যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং সৃজন করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও সহমর্মিতা। নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে সে সম্প্রদায়ের জন্য, যারা চিন্তা করে।” (সূরা রুম, আয়াত নং ২১)

➧ “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তাঁরই আদেশে আসমান ও যমীনের স্থিতি থাকে; তারপর আল্লাহ্ যখন তোমাদেরকে যমীন থেকে উঠার জন্য একবার ডাকবেন তখনই তোমরা বেরিয়ে আসবে।” (সূরা রুম, আয়াত নং ২৫)

➧ “আল্লাহ্ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন দুর্বলতা থেকে, দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি; শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।” (সূরা রূম, আয়াত নং ৫৪)

➧ “আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।” (সূরা আনআম, আয়াত নং ৩৮)

➧ “নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি আল্লাহ অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ? তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ।” (সূরা আনআম, আয়াত নং ৯৫-৯৬)

➧ “দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ব করতে পারে না, অথচ তিনি সকল দৃষ্টিকে আয়ত্ব করেন এবং তিনি সূক্ষদর্শী, সম্যক অবহিত।” (সূরা আনআম, আয়াত নং ১০৩)

➧ “চোখসমূহের খেয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তা তিনি জানেন।” (সূরা গাফির, আয়াত নং ১৯)

ব্যাখ্যা: এতে মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ জ্ঞানের বর্ণনা রয়েছে যা সবকিছুকেই পরিবেষ্টনকারী যা কোন সৃষ্টির ক্ষেত্রে অসম্ভব ব্যাপার। আড়চোখে কোন সুন্দর পুরুষ/মহিলা কে দেখা এবং ততসঙ্গে অন্তরের কুচিন্তাও যার মধ্যে শামিল। যতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো কল্পনাই থাকে অর্থাৎ মূহুর্তে আসে আবার চলে যায়, ততক্ষন পর্যন্ত তার জন্য কোন জবাবদিহী করতে হবে না। কিন্তু যখন তা দৃঢ় পরিকল্পনার আকার ধারণ করবে তখন তার ধরপাকড় হতে পারে, যদিও মানুষ সে অনুযায়ী আমল করার সূযোগ না পায়। অবস্থা যখন এরূপ, তখন মানুষের উচিৎ নিজেদের অন্তরে প্রকৃত অর্থে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা এবং তার অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা। (তাফসীরে আহসানুল বায়ান, সংক্ষেপিত)

➧ “আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী (অর্থ জ্ঞানের নৈকট্য যার দ্বারা অন্তরের কথাগুলোও জানতে পারেন) ।” (সূরা ক্বাফ, আয়াত নং ১৬)

➧ “আল্লাহ্, যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে স্থিতিশীল করেছেন এবং আসমানকে করেছেন ছাদ এবং তিনি তোমাদের আকৃতি দিয়েছেন অতঃপর তোমাদের আকৃতিকে করেছেন সুন্দর এবং তোমাদেরকে রিযিক দান করেছেন পবিত্র বস্তু থেকে। তিনিই আল্লাহ্ তোমাদের রব। সুতরাং সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্ কত বরকতময় (কল্যাণময়)!” (সূরা মুমিন, আয়াত নং ৬৪)

➧ “তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করা স্থির করেন তখন তিনি তার জন্য বলেন 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।” (সূরা মুমিন, আয়াত নং ৬৮)

➧ “আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং ওগুলোকে করেছি শয়তানদের প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র স্বরূপ এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি।” (সূরা মূলক, আয়াত নং ৫)

➧ “নিশ্চয় আমরা কাছের আসমানকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি। এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে।” (সূরা সাফফাত, আয়াত নং ৬-৭)

নোট: নাসা’র (যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় বিমানচালনবিদ্যা ও মহাকাশ প্রশাসন সংস্থা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মানুষের পর্যবেক্ষণিক সীমার মধ্যে একশ বিলিয়নেরও (১০ হাজার কোটি) বেশি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ (অসংখ্য তারকা, ধুলাবালি, গ্যাসীয় পদার্থ নিয়ে গ্যালাক্সি গঠিত) রয়েছে। ২০২১ সালে নাসা’র নিউ হরাইজোন স্পেস প্রোবের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি ধারনামতে এই সংখ্যা ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) থেকে ২ ট্রিলিয়ন (২ লক্ষ কোটি) পর্যন্ত হতে পারে। অধিকাংশ ছায়াপথের ব্যস ৩ হাজার আলোকবর্ষ থেকে শুরু করে ৩ লক্ষ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত। ছায়াপথসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব ১০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ আলোকবর্ষের পর্যায়ে। ১ আলোকবর্ষ মানে আলোর এক বছরে অতিক্রান্ত পথ, যা প্রতি সেকেন্ড ১.৮৬ লক্ষ মাইল দুরত্ব অতিক্রম করে, অর্থাৎ ৫.৪ ট্রিলিয়ন (৫.৪ লক্ষ কোটি) মাইল বা ৯.৪ ট্রিলিয়ন (৯.৪ লক্ষ কোটি) কিলোমিটার দুরত্ব। সুতরাং মহাবিশ্ব কত বড় হতে পারে সেটি ধারনা করা যেতে পারে। একটি আদর্শ ছায়াপথে ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) থেকে এক ট্রিলিয়ন (১ লক্ষ কোটি) পর্যন্ত তারা থাকে। আমাদের সৌরজগত মিল্কিওয়ে নামক ছায়াপথে অবস্থিত যা নিকটবর্তী প্রতিবেশী ছায়াপথ অ্যান্ড্রোমিডা থেকে ২৫ লক্ষ আলোকবর্ষ দুরত্বের দ্বারা বিচ্ছিন্ন। (নাসা’র ওয়েবসাইট, মার্চ ২০২১, solarsystem.nasa.gov)

যদিও উপরোক্ত মহাকাশ তথ্যাদি বিজ্ঞানের নব আবিষ্কারের সাথে পরিবর্তনশীল এবং শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, তথাপি তা থেকে আমরা মহাপরাক্রান্ত ও প্রতাপান্বিত স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর অসীম শক্তি, ক্ষমতা ও তাঁর নিপুন সৃষ্টির বিশালতা ও হাজারো বৈচিত্র্যের কথা ভেবে বিস্ময়ে হতবাক হই এবং তিনিই যে প্রকৃত মা’বুদ (উপাস্য) হবার একমাত্র হকদার তা বুঝতে পারি। অধিকন্তু, শাফায়াত বা সুপারিশের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এই পৃথিবীর সমান দশগুণ (১০) বিস্তৃত জান্নাতের জায়গা প্রদান করা যে তাঁর পক্ষে কোনো ব্যাপারই নয়, তার দৃঢ় বিশ্বাস লাভ করতে পারি। (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত হা/৫৩৪৭ দ্রষ্টব্য)

নাসার বিজ্ঞানীরা সহ বর্তমান আধুনিক যুগের সকল বিজ্ঞানী পৃথিবী নামক গ্রহের গবেষণা অনেকটা কমিয়ে দিয়ে মহাকাশ তথা গ্যালাক্সি সহ ঊর্ধ্বজগতের গবেষণায় বিভোর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে তারা মহান আল্লাহ তা’আলার সৃষ্ট জগৎসমূহের বা তার সৃষ্টি রহস্যের কূলকিনারা করতে সক্ষম হচ্ছে না এবং তা করা তো দুরের কথা এর ধারে কাছেও পৌঁছাতে সক্ষম হবে না, এটা দিবালোকের মত সত্য হলেও তাদের অধিকাংশই মহাক্ষমতাধর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিচ্ছে না। এটাই একটা বিস্ময়ের ব্যাপার, একথা আল্লাহ তা’আলা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে পৃথিবীবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, “আর আমরা তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে তা দ্বারা তারা দেখে না এবং তাদের কান আছে তা দ্বারা তারা শুনে না; তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তার চেয়েও বেশী বিভ্রান্ত। তারাই হচ্ছে গাফেল।” (সূরা আরাফ, আয়াত নং ১৭৯)

ইমাম গাজ্জালীসহ বহু গুরুজন আল্লাহর সৃষ্টি বিশেষ করে মহাকাশে তাঁর অসংখ্য বিশাল সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে উৎসাহিত করেছেন। একাজ মু’মিনের ঈমানকে ইয়াকীনের স্তরে উন্নীত করতে এবং ফলভারে অবনত বৃক্ষের মত জ্ঞানভারে সমৃদ্ধ মু’মিনকে ভক্তি শ্রদ্ধায় দেহমনে একাত্ম হয়ে প্রভুর ইবাদত/আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ হতে ও তাঁরই উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হতে একান্ত সহায়ক। আর এরূপ মু’মিন ব্যক্তিরাই প্রকৃত জ্ঞানী/বুদ্ধিজীবি বলে মহান আল্লাহ্‌ তাদের প্রশংসা করেছেন সূরা আলে-ইমরানের শেষাংশে।

➧ “নিশ্চয় আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম পাথর বহনকারী প্রচণ্ড ঝটিকা, কিন্তু লূত পরিবারের উপর নয়; তাদেরকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম রাতের শেষাংশে, আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ; যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, আমরা এভাবেই তাকে পুরস্কৃত করে থাকি।” (সূরা ক্বামার, আয়াত নং ৩৪-৩৫)

➧ “আমরা বললাম, ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও’।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং ৬৯)

➧ “তোমাদের মধ্যে যে কথা গোপন রাখে বা যে তা প্রকাশ করে, রাতে যে আত্মগোপন করে এবং দিনে যে প্রকাশ্যে বিচরণ করে, তারা সবাই আল্লাহ্‌র নিকট সমান।” (সূরা রাদ, আয়াত নং ১০)

➧ “তিনিই তোমাদেরকে দেখান বিজলী, ভয় ও আশা-আকাংখারূপে এবং তিনিই সৃষ্টি করেন ভারী মেঘ।” (সূরা রাদ, আয়াত নং ১২)

নোট: উপরোক্ত ৩টি সূরার (ক্বামার, আম্বিয়া ও রাদ) ৫টি আয়াতে আমরা মহাপরাক্রান্ত আল্লাহর সৃষ্টি অগ্নি, বায়ু, বিদ্যুৎ ও পানি/মেঘমালার উপর তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন/পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা লাভ করি। অধিকন্ত, মানুষের গোপন ও প্রকাশ্য অবস্থান ও কথাবার্তা কোন কিছুই ঐসব শক্তি/বস্তুর নিয়ন্ত্রক আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার আওতা বহির্ভূত নয় তা জেনে আল্লাহভীতি (তাক্বওয়া) অবলম্বনের গুরুত্ব অনুধাবন করি। ম্যাচের কাঠিতে ঘর্ষণ দিলেই আগুন জ্বলে ওঠে। পানি/বাষ্প সহ উক্ত ৪টি সৃষ্টিই অলক্ষে আমাদেরকে বাস্তবে সবদিক থেকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে যা আমরা ভেবে দেখি না।

➧ “তুমি কি তোমার পালনকর্তাকে দেখ না, তিনি কিভাবে ছায়াকে বিলম্বিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে একে স্থির রাখতে পারতেন। এরপর আমি সূর্যকে করেছি এর নির্দেশক। অতঃপর আমি একে নিজের দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি। (সূরা ফুরকান, আয়াত নং ৪৫-৪৬)