যখন থেকে মানুষ শির্‌কের (আল্লাহর সাথে অন্যান্যদের তথা স্রষ্ঠার সাথে সৃষ্ঠজীবের উপাসনা/পূজা-অর্চনার) প্রবর্তন করে, তখন থেকে আল্লাহ তাঁর ভক্তদেরকে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদতের প্রতি আহবান জানানোর জন্য আল্লাহর কোন অংশীদার সাব্যস্ত না করার নির্দেশ দিতে এবং তাদেরকে বহুত্ববাদের অন্ধকার থেকে বের করে একত্ববাদের আলোর দিকে নিয়ে আসতে নবী ও রসূলদের (বাণীবাহক, বার্তাবাহক বা সংবাদবাহক) পাঠাতে থাকেন। সমস্ত নবীগণ তাওহীদের বাণী (অর্থাৎ একত্ববাদ, মহিয়ান গরিয়ান আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস) প্রচার করেছেন। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ তার উদাহরণ:

“আমি তো নূহকে পাঠাইয়াছিলাম তাহার সম্প্রদায়ের নিকট এবং সে বলিয়াছিল, 'হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের আর কোন ইলাহ নাই। আমি তোমাদের জন্য মহাদিনের শাস্তির আশংকা করিতেছি।” (সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ৫৯)

“আদ জাতির নিকট আমি উহাদের ভ্রাতা হূদকে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। তোমরা কি সাবধান হইবে না?” (সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ৬৫)

“সামূদ জাতির নিকট তাহাদের ভ্রাতা সালিহকে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নাই। তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসিয়াছে। আল্লাহর এই উষ্ট্রী তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন। ইহাকে আল্লাহর জমিতে চরিয়া খাইতে দাও এবং ইহাকে কোন ক্লেশ দিওনা, দিলে মর্মন্তুদ শাস্তি তোমাদের উপর আপতিত হইবে।” (সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ৭৩)

“আমি মাদয়ানবাসীদের নিকট তাহাদের ভ্রাতা শু'আয়বকে পাঠাইয়াছিলাম। সে বলিয়াছিল, 'হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ নাই; তোমাদের প্রতিপালক হইতে তোমাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ আসিয়াছে। সুতরাং তোমরা মাপ ও ওজন ঠিকভাবে দিবে, লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবেনা এবং দুনিয়ায় শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় ঘটাইবেনা; তোমরা মু'মিন হইলে তোমাদের জন্য ইহা কল্যাণকর।” (সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ৮৫)

“আল্লাহর ইবাদাত করিবার ও তাগূতকে বর্জন করিবার নির্দেশ দিবার জন্য আমিতো প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রসূল পাঠাইয়াছি। অতঃপর উহাদের কতককে আল্লাহ সৎপথে পরিচালিত করেন এবং উহাদের কতকের উপর পথভ্রান্তি সাব্যস্ত হইয়াছিল; সুতরাং পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ, যাহারা সত্যকে মিথ্যা বলিয়াছে তাহাদের পরিণাম কি হইয়াছে!” (সূরা নাহল, আয়াত নং ৩৬)

প্রত্যেক নবী তাঁর নিজ জাতি-গোষ্ঠিকে পথপ্রদর্শনের (হেদায়াতের) জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, কিন্তু নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বার্তা ছিল সাধারণভাবে সকল মানব ও জ্বিন জাতির জন্য। যেমন সূরা আ'রাফে আল্লাহ তাঁর রসূলকে (ﷺ) সম্বোধন করে বলেন,

“বল, 'হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য আল্লাহর রসূল, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই; তিনিই জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান। সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি ও তাঁহার বার্তাবাহক উম্মী নবীর প্রতি; যে আল্লাহ ও তাঁহার বাণীতে ঈমান আনে এবং তোমরা তাহার অনুসরণ কর, যাহাতে তোমরা সঠিক পথ পাও।” (সূরা আ'রাফ, আয়াত নং ১৫৮)

সুতরাং জিন ও মানবের নিকট এইসব নবী রসূল পাঠানোর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যে তারা শুধু আল্লাহর ইবাদাত/উপাসনা করবে। যেমন আল্লাহ বলেন-

“আমি সৃষ্টি করিয়াছি জিন এবং মানুষকে এই জন্য যে, তাহারা আমারই ইবাদত করিবে।” (সূরা যারিয়াত, আয়াত নং ৫৬)

আল্লাহর ইবাদাত করার অর্থ হলো তাঁর আনুগত্য করা এবং যা কিছু তিনি করার নির্দেশ দিয়েছেন তা করা, একইসঙ্গে তাঁকে ভয় করা, তিনি যেসব করতে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে। শুধুমাত্র তখনই যারা তাঁর আনুগত্য করবে তাদেরকে তিনি জান্নাতে পাঠিয়ে পুরস্কৃত করবেন, আর যারা তাঁকে অমান্য করবে তাদেরকে নরকাগ্নিতে/জাহান্নামে পাঠিয়ে শাস্তি প্রদান করবেন।