الحمد لله وكفى والصلوة والسلام على من لا نبي بعده.
দি নোব্ল কুরআন (মহিমান্বিত কুরআন) পরিশিষ্ট-২ এর সম্মানিত লেখকদ্বয় ড. মুহাম্মাদ তাকীউদ্দিন আল-হিলালী ও ডা. মুহাম্মাদ মুহসিন খান গভীর জ্ঞানের অধিকারী। তাঁরা পুরো কুরআনুল কারীমের ইংরেজি অনুবাদ শেষে পরিশিষ্ট আকারে শাহাদাহ, তাওহীদ, শিরক, কুফর ও নিফাক সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসের সূত্রসহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী দিয়েছেন। সেই সাথে সম্মানিত অনুবাদক জনাব মুহাম্মাদ ইয়াকুব আলী প্রত্যেকটি বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় আয়াত ও হাদিস সংযোজন করে প্রতিটি বিষয়কে আরো সমৃদ্ধ করেছেন।
আমার মত নগন্য ব্যক্তিকে তিনি বইটি সম্পাদনা করার দায়িত্ব দেওয়ায় আমি বিস্মিত হয়েছি। কারণ তাঁর প্রজ্ঞা ও গভীর জ্ঞান দিয়ে বইটি শুধু অনুবাদই করেননি, বরং একইসঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে কোরআন ও হাদীসের যেসব উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাতে বইটি বুঝা ও জানার জন্য খুবই সহজতর হবে। আর যে দুজন মূল কুরআনের ইংরেজি ভার্সন ও টীকা লিখেছেন তাঁরা বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ইসলামী স্কলার।
মুসলিম সমাজ নামায, রোজা, দোয়া-দরুদ নিয়ে কিছু চর্চা করলেও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো তথা তাওহীদ, শিরক, কুফর ও নিফাক সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও বাস্তব জ্ঞান খুব কম মুসলমানেরই রয়েছে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অত্রপুস্তকে এই কয়টি বিষয়ের পর্যাপ্ত আয়াত ও হাদীস এবং সেগুলোর সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বইটি আদ্যপান্ত পড়ে এবং প্রয়োজনীয় সম্পাদনা করে মনে হয়েছে যে এই বইটি আমাদের সকল মুবাল্লিগ, দায়ী ইলাল্লাহ এবং খতীব ও ইমামগণের জন্য রেফারেন্স বুক হিসেবে একটি মূল্যবান সম্পদ হবে।
আশা করি সকল ওলামায়ে কেরামতো বটেই, বইটি প্রত্যেক মুসলিমের ঘরে থাকলে ইসলামের এই মৌলিক বিষয়সমূহ এবং ইহ ও পরকাল সম্পর্কে পরিবারের সদস্যগণ এবং তাদের পরের প্রজন্মের জন্য একটি নির্ভেজাল খাঁটি চিন্তাধারার সূচনা করতে তারা সক্ষম হবে। বিষয়বস্তুর গুরুত্ত এবং আলাদাভাবে শিক্ষাদানে অভিভাবকদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বইটি জাতীয় পাঠ্যক্রমের সকল স্তরে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তা করা হলে আশা করা যায় শিক্ষার্থীরা জীবন গঠনের শুরুতেই এ বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান লাভে সক্ষম হবে।
পরিশেষে আমি বাংলা ভাষাভাষী সকল ভাইদের বিশেষ করে সকল মসজিদের ইমাম ও খতীবগণের নিকট পুনরায় আবেদন জানাচ্ছি বইটি সংগ্রহ করে রেফারেন্স বই হিসেবে পড়বেন ও দাওয়াতী কাজে অগ্রগামী হবেন ।
মহান আল্লাহ সংশ্লিষ্ট সকলকে খাঁটি ঈমান ও কর্মময় জীবনের তৌফিক দান করুন। আমীন।
-মাওলানা কাজী আবু হুরাইরা
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি