একজন মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাসের ঘোষণাপত্র বা স্বীকারোক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর বার্তাবাহক বা রসূল।
এটা লক্ষ্য করা হয়েছে যে, মানব জাতির মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের অধিকাংশই ইসলামের প্রথম মৌলিকনীতি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর বার্তাবাহক বা রসূল” এর অর্থের প্রকৃত বাস্তবতা বুঝেননা। সুতরাং এই মহান কালেমার (বাক্যের) কিছু অর্থের কিছুটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আমি অপরিহার্য বিবেচনা করছি: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা হুমুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর বার্তাবাহক বা রসূল’ এর তিনটি রূপ: ক, খ এবং গ।
ক) এটা হলো মহীয়ান গরিয়ান আল্লাহ, যিনি সপ্তাকাশ ও জমিনের স্রষ্টা এবং অস্তিত্বশীল সকল কিছুর শাসক, তাঁর সাথে সম্পাদিত ৪ (চার) দফার একটি ঐকান্তিক অঙ্গীকারনামা যা নিছক কোন প্রতিজ্ঞা নয়।
১ম দফা: আপনার অন্তর/হৃদয় দিয়ে এই স্বীকারোক্তি করা যে সকল বস্তুর স্রষ্টা আল্লাহ; এটা এই যে আপনাকে বলতে হবেঃ “গ্রহ নক্ষত্রসমূহ, সূর্য, চন্দ্র, আকাশমন্ডলী ও জমিন এবং ইহাদের মধ্যস্থিত সকল প্রকার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত জীবনের স্রষ্টা হলেন আল্লাহ। তিনি ইহাদের সকল প্রকারের সংগঠক ও পরিকল্পনাকারী। তিনিই জীবন ও মৃত্যুদাতা এবং তিনিই (এককভাবে) প্রতিপালক এবং নিরাপত্তাদাতা।” এবং এটাকেই বলা হয় (আপনার স্বীকারোক্তি) আল্লাহর প্রভুত্বের একত্ববাদ বা আরবীতে তাওহীদ-উর-রবুবিয়্যাহ।
২য় দফা: আপনার হৃদয়/অন্তর থেকে স্বীকারোক্তি করা যেঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপাস্য বা ইলাহ নেই।” ইসলামী পরিভাষায় উপাসনা বা পূজা অর্চনা (অর্থাৎ ইবাদত) শব্দটি বহুবিধ অর্থজ্ঞাপকঃ এটা এই অনুভূতি জ্ঞাপন করে যে সর্বপ্রকার উপাসনা /ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য (এবং অপর কাহারও জন্য নয়, হোক সে ফেরেশতা বা স্বর্গীয় দূত, রসূল বা বার্তাবাহক, মারিয়াম পুত্র নবী ঈসা (আঃ), উজাইর (ইজরা), মুহাম্মদ (ﷺ), সাধু-সন্ত, মূর্তি, সূর্য, চন্দ্র এবং সকল প্রকার মিথ্যা দেবদেবীসমূহ) । সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কারও নিকট দু’আ বা যাচনা করো না, আল্লাহ ছাড়া অদৃশ্য কারও নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো না, আল্লাহ ছাড়া আর কারও নামে শপথ করোনা এবং কোন পশু কুরবানী করো না ইত্যাদি – যার অর্থ আল্লাহ এবং তাঁর বার্তাবাহক মুহাম্মদ (ﷺ) যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন (কুরআন ও সুন্নাহতে) আপনি তা অবশ্যই করবেন এবং যা কিছু আল্লাহ ও তাঁর রসূল নিষেধ করেছেন, আপনি তা অবশ্যই করবেন না। এটাকে বলা হয় (আপনার স্বীকারোক্তি) ইবাদত বন্দেগীতে আল্লাহর একত্ববাদ – আরবীতে তাওহীদ-আল-উলুহিয়্যাহ। সুতরাং আপনারা (হে মানবজাতি) আল্লাহ ছাড়া আর কারও পূজা উপাসনা করবেন না।
৩য় দফা: আপনার হৃদয় থেকে এ স্বীকারোক্তি যে, “হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যেসব উত্তম নামসমূহ ও পূর্নাঙ্গ গুণাবলীতে আপনি নিজেকে আপনার কিতাবে (অর্থাৎ কুরআনে) ভূষিত করেছেন অথবা আপনার নবী মুহাম্মদ (ﷺ) তাঁর বর্ণনায় যেসব নামে ও গুণাবলীতে আপনাকে ভূষিত করেছেন, আমি বিশ্বাস করি এগুলি (নামসমূহ ও গুণাবলী) অর্থের কোন পরিবর্তন ছাড়া অথবা এগুলি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে / অবহেলা করে বা অন্যকিছুর সঙ্গে সেগুলির সাদৃশ্য নির্ণয় করা ছাড়াই।”
যেমন আল্লাহ বলেন, “কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সব শোনেন, সব দেখেন।” (সূরা আশ-শুআ’রা, আয়াত নং ১১)
এই আয়াত কোন সৃষ্টবস্তুর সাথে কোন প্রকার তুলনা বা সাদৃশ্য ছাড়াই আল্লাহর দর্শন ও শ্রবণশক্তির গুণাবলী প্রমান করে। তিনি আরও বলেন,
“যাহাকে আমি নিজ উভয় হস্তে সৃষ্টি করিয়াছি।” (সূরা সাদ, আয়াত নং ৭৫)
তিনি আরও বলেন, “তাদের হাতের উপরে আছে আল্লাহর হাত।” (সূরা-আল-ফাত্হ, আয়াত নং ১০)
এটা আল্লাহর জন্য দুটি হাত নিশ্চিত করে কিন্তু তাদের কোন সাদৃশ্য নাই।
অনুরূপ আল্লাহ বলেন, “পরম দয়াময় (আল্লাহ) আরশে সমাসীন (যেভাবে তাঁর মাহাত্ম্যের সাথে শোভনীয়) ।” (সূরা ত্ব-হা, আয়াত নং ৫)
সুতরাং তিনি বাস্তবেই তাঁর সিংহাসনে (আরশে) সমাসীন হয়েছেন যেভাবে তাঁর মাহাত্ম্যের সাথে শোভনীয়।
এবং আল্লাহ সপ্তাকাশের উপরে তাঁর সিংহাসনে সমাসীন আছেন, যেমন এক ক্রীতদাসী বালিকাকে আল্লাহর রসূলের (ﷺ) এর প্রশ্ন “আল্লাহ কোথায়” এর জবাবে সে আকাশের দিকে উদ্দিষ্ট করে দেখায়।
তিনি প্রতিরাতের শেষ তৃতীয়াংশে নিকটবর্তী আকাশে আমাদের নিকটে অবতরণ করেন এবং আরাফার দিনেও (জ্বিলহজ্জ মাসের ৯ম তারিখে) যেমনটি নবী মুহাম্মদ (ﷺ) উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর সত্ত্বাসহ নয় বরং জ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের সাথেই আছেন। এটা সেরূপ নয় যেমন কিছুলোক মনে করে যে আল্লাহ এখানে সেখানে সব জায়গায় এমনকি মানবের বক্ষস্থিত অন্তরেও আছেন।
আমরা যা কিছু করি বা বলি তিনি সবই দেখেন ও শুনেন এবং এটাকেই (আপনার স্বীকারোক্তি) আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলীতে তাঁর একত্ববাদ বলে – আরবীতে তাওহীদ আল-আসমা ওয়াস সিফাত। এবং এটাই সঠিক আক্বিদা বা বিশ্বাস, যে বিশ্বাসের অনুসারী ছিলেন আল্লাহর নাবীগণ (নূহ, ইব্রাহিম, মুসা, দাউদ, সুলাঈমান, ঈসা থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ) এবং এসব নাবীগণের সৎকর্মপরায়ণ অনুসারীগণ।
৪র্থ দফা: আপনার হৃদয় দিয়ে এ স্বীকারোক্তি করাঃ “হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (ﷺ) আপনার বাণীবাহক বা বার্তাবাহক (রসূল) ।” যার অর্থ, যেহেতু মুহাম্মদ (ﷺ) সর্বশেষ রসূল সেহেতু আল্লাহর পরে মুহাম্মদ (ﷺ) ছাড়া আর কারও আনুগত্য পাবার অধিকার নেই। যেমন আল্লাহ বলেন,
“মুহাম্মদ (ﷺ) তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রসূল এবং শেষনবী। আর আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।” (সূরা আহযাব, আয়াত নং ৪০)
“এবং রসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা হাশর, আয়াত নং ৭)
“এবং আল্লাহ বলেন, বলুন (হে মুহাম্মদ, মানবজাতিকে বলুন), তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ কর (অর্থাৎ ইসলামের একত্ববাদ বা তাওহীদকে গ্রহণ কর এবং কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ কর) ।” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ৩১)
মুহাম্মদ (ﷺ) ছাড়া অন্যান্যদের ব্যাপারে তাদের বর্ণনা আল্লাহর কিতাব (কুরআন) ও রসূলের সুন্নাহ (বৈধআইনসম্মত বিষয়াদি, নির্দেশনা, ইবাদত, বর্ণনা) অনুরূপ কিনা, সে আলোকে গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হবে।
যেহেতু নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর মৃত্যুর পর থেকে আসমানী প্রত্যাদেশ বা ওহী অবতীর্ণ হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে এবং মরিয়ম পুত্র ঈসার (যীশুর) অবতরণ সময়কালে ছাড়া তা আর পুনরায় শুরু হবেনা (এ কথার সাথে আমরা একমত নই - অনুবাদক) এবং সহীহ হাদীসের বর্ণনামতে (নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর বর্ণনা সহীহ বুখারী খন্ড নং ৩, হাদীস নং ৪২৫) তিনি (যীশু) পৃথিবীর শেষ দিনগুলিতে ইসলামী আইনানুসারে ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।
খ) এটা উচ্চারণ করা অপরিহার্য: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ (আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাসনার বা উপাস্য হবার অধিকার নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর বার্তাবাহক/সংবাদবাহক বা রসূল) । যেহেতু এটা নবী মুহাম্মদ (ﷺ) এর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর সময় তার নিকট নবীজির বর্ণনা/বক্তব্য হিসেবে এসেছেঃ হে চাচা; যদি আপনি মনেপ্রাণে এটা বলেন/উচ্চারণ করেন (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ – আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর বার্তাবাহক), তাহলে কিয়ামত দিবসে আমি আল্লাহর সম্মুখে আপনার জন্য যুক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হব। একইভাবে যখন আবু যর গিফারী ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তিনি মসজিদুল হারামে যান এবং কুরাইশ কাফেরদের সামনে তা উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে থাকেন যাবৎ না তাকে নিষ্ঠূরভাবে প্রহার করা হয়।
গ) এটা অপরিহার্য যে কারও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং তাঁর দেহের অন্যান্য অংশ ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ইহার সাক্ষ্য দিবে এবং ইহার অর্থের ব্যাপারে ইহা খুবই গুরুত্বপূর্ণ (অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্র অর্থ – আল্লাহ ছাড়া কারও উপাস্য হবার অধিকার নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর বার্তাবাহক) ।
সুতরাং যে কেউ এটার স্বীকারোক্তি করেছে (তার প্রভুর নিকটে) সে কোন পাপাচারে লিপ্ত হবে না যেমন- চুরি, ডাকাতি, হত্যা, ব্যাভিচার, শূকর মাংস ভক্ষণ, মদ্যপান, এতিমের সম্পদে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ, ব্যবসায়ে প্রতারণা, ঘুষ এবং অবৈধ উপায়ে অর্থোপার্জন, মিথ্যাচার, গীবত অন্যথায় তার দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও অন্যান্য দেহাংশ আল্লাহর নিকটে তার কৃত অঙ্গীকারে সে মিথ্যুক ছিল বলে সাক্ষ্য দিবে। যদি সে উপরোক্ত পাপাচারে লিপ্ত হয় তবে তার জানা দরকার যে এসব এমন পাপ যার জন্য তার অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে যেহেতু তার দেহের অঙ্গসমূহ (অর্থাৎ চর্ম, গোপনাঙ্গসমূহ, হাত, জিহবা, কানসমূহ) তার উপরোক্ত অপরাধের (আমলসমূহের) জন্য তার বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিবসে সাক্ষ্য প্রদান করবে।
এবং এই মহান কালেমার (অর্থাৎ নীতিবাক্য) স্বীকারোক্তির সঙ্গেই কোন ব্যক্তি ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করে। তদানুসারে আল্লাহর সমস্ত নবীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাদের মধ্যে কোন পার্থক্য না করা তার জন্য অপরিহার্য। যেহেতু এটা তাঁর (আল্লাহর) কিতাবে উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন,
“যারা কুফরী করেছে তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের (তথা শাস্তির) জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি।”
“বলুন (হে মুহাম্মদ) ‘আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দিব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত?” তারাই সেসব লোক যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করেছে যে তারা সৎকর্মই করেছে।”তারাই সেসব লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী** এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের সকল আমল নিস্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখবনা। জাহান্নাম- এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কুফরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয়রূপে গ্রহণ করেছে। নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের মেহমানদারির (অভ্যর্থনার) জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। যেখানে তারা চিরকাল থাকবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবেনা। [হে মুহাম্মদ (ﷺ)] মানবজাতিকে বলুন, আমার পালনকর্তার কথা লেখার জন্য যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও। বলুন, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ (উপাস্য) । অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।” (সূরা কাহাফ, আয়াত নং ১০২-১১০) [** প্রমাণসমূহ, সাক্ষ্যপ্রমান, আয়াতসমূহ, উপদেশ, লক্ষণাদি ও বিষ্ময়কর গুপ্তবিষয়ের প্রকাশ ইত্যাদি]
যে কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে চায় তার জন্য এই ভূমিকার (উপরোক্ত জ্ঞান) একান্ত প্রয়োজন। এই স্বীকারোক্তির পর তার (নারী বা পুরুষ) উচিৎ গোসল করা এবং তারপর দু'রাকাত সালাত আদায় করা এবং বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের ৭নং হাদীসে ইবনে ওমর (রাঃ) বর্ণিত ইসলামের ৫ (পাঁচ) টি স্তম্ভের উপর আমল করা। ইবনে ওমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেছেন: ইসলাম পাঁচটি নিম্নোক্ত ভিত্তি/স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিতঃ
১. এই সাক্ষ্য দেয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আন্না মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্ (আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপাস্য হবার অধিকার নাই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল বা বার্তাবাহক বা দূত
২. সালাত আদায় করা
৩. যাকাত প্রদান করা
৪. হজ্জ্ব করা (অর্থাৎ মক্কায় তীর্থযাত্রা করা)
৫. রামাজান মাসে সাওম (রোজা) রাখা
এবং অবশ্যই ঈমানের ৬ টি ভিত্তির উপর বিশ্বাস রাখা অর্থাৎ বিশ্বাস করাঃ
১. আল্লাহর উপর, ২. তাঁর ফেরেশতাদের উপর, ৩. তাঁর রসূলগণের উপর, ৪. তাঁর অবতীর্ণ কিতাবসমূহে, ৫. পুনরুত্থান (কিয়ামত) দিবসের উপরে এবং ৬. তাকদীরে (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তাকদীর অর্থাৎ ভাগ্যের ভালো এবং মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তা অবশ্যই সংঘটিত হবে) ।
গুরুত্বপূর্ণ মনোযোগ দেয়ার বিষয়:
সৎকর্ম কবুল হওয়া নিম্নের দু'টি মৌলিক শর্তের উপর নির্ভরশীল যা অবশ্যই পূর্ণ করতে হবে:
১. এরূপ কর্ম সম্পাদনের উদ্দেশ্য হতে হবে সম্পূর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে – কোন প্রকার লোক দেখানো (বা শোনানো), খ্যাতি বা প্রশংসা অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া।
২. এরূপ আমল অবশ্যই আল্লাহর রসূল মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ যিনি সকল নবী ও রসূলদের সর্বশেষ নবী ও রসূল, তাঁর সুন্নাত (আইনসম্মত নির্দেশ, ইবাদত, বর্ণনা) মোতাবেক সম্পাদিত হতে হবে।