তাওহীদ-আল-আসমা ওয়াস সিফাত বুঝার জন্য সংশ্লিষ্ট কিছু আয়াত, হাদীস (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নোটসহ) নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
➧ আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সেই আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা, যার শ্রবণশক্তি সকল শব্দতে পরিব্যাপ্ত। একদা এক মহিলা তার অভিযোগ নিয়ে নবী (ﷺ) এর কাছে আসে। তখন আমি ঘরের এক কোণে অবস্থানরত ছিলাম। সে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, কিন্তু আমি তার বক্তব্য শুনতে পাইনি। তখন আল্লাহ্ তা’আলা (সাত আসমানের উপর থেকে তার কথা শুনে নিয়ে) এ আয়াত নাযিল করেন (অনুবাদ), “আল্লাহ্ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে...” (সূরা মুজাদালা, আয়াত নং ১) ।’ (নাসায়ী হা/ ৩৪৬০, ইবনে মাজাহ, হা/ ১৮৮)
নোট: নামাযের মধ্যে মুমিন ব্যক্তি রুকু থেকে দাড়িয়ে উঠার সময় পড়েন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ”, অর্থাৎ ‘যে কেউ তার প্রভূর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শুনেন’ (বুখারী ৬৯৬, ইফা, সংক্ষেপিত), মা আয়েশা (রা.) বর্ণিত উক্ত হাদীসের শিক্ষা ‘প্রতিটি শব্দে আল্লাহর শ্রবণশক্তি পরিব্যাপ্ত’ এই কথার সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি দিয়ে থাকেন।
➧ আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, “তাঁর পর্দা (অন্তরাল) হল নূর (জ্যোতি বা আলো) । যে পর্দা উন্মোচিত হলে তাঁর আনন-দীপ্তি সমস্ত সৃষ্টিকুলকে দগ্ধীভূত করে ফেলবে।” (মুসলিম ৪৬৩)
➧ উবাদাহ বিন সামেত (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, “মরণের পূর্বে কখনোই তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে না।” (আহমাদ ২২৭৬৪, সহীহুল জা’মে ২৪৫৯)
➧ “দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ব করতে পারে না, কিন্তু দৃষ্টিসমূহ তাঁর আয়ত্বে আছে এবং তিনিই সুক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।” (সূরা আন’আম, আয়াত নং ১০৩)
➧ “কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে, আল্লাহ্ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ওহীর (প্রত্যাদেশ) মাধ্যম ব্যতিরেকে, অন্তরাল ব্যতিরেকে অথবা কোন দূত প্রেরণ ব্যতিরেকে; আর তখন আল্লাহ্ যা চান তা তাঁর অনুমতিক্রমে অহী (প্রত্যাদেশ) করেন; নিঃসন্দেহে তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা শুরা, আয়াত নং ৫১)
➧ “নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল।” (সূরা নাজ্ম, আয়াত নং ১৩)
➧ “অবশ্যই সে তাকে স্পষ্ট দিগন্তে দর্শন করেছে।” (সূরা তাকবীর, আয়াত নং ২৩)
➧ মা আয়েশা (রাঃ) বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি এব্যাপারে আল্লাহর রসূল (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন: “তিনি হলেন জিবরীল। তাঁকে ঐ দুইবার ছাড়া অন্য বারে তাঁর সৃষ্টিগত আসল রূপে দর্শন করিনি। যখন তিনি আসমানে অবতরণরত ছিলেন, তাঁর বিরাট সৃষ্টি আকৃতি আকাশ-পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে ঘিরে রেখেছিল।” (মাসরূক বর্ণিত, মুসলিম ৪৫৭, তিরমিযী ৩০৬৮)